{getBlock} $results={3} $label={রাজনীতি} $type={headermagazine}

রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার চিন্তা নেই

জুলাইয়ের পর প্রত্যেকে যার যার এজেন্ডায় চলে গেছে

সাক্ষাৎকার: নাহিদ ইসলাম

জুলাইয়ের পর প্রত্যেকে যার যার এজেন্ডায় চলে গেছে

জুলাইয়ের পর প্রত্যেকে যার যার এজেন্ডায় চলে গেছে

সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে গত বছরের ১ জুলাই শুরু হওয়া আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নামে শিক্ষার্থীদের একটি প্ল্যাটফর্ম। ৩৬ দিনের (১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত) সেই আন্দোলনে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের পতন হয়। কোটা সংস্কার থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান—পুরো আন্দোলনে অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিলেন মো. নাহিদ ইসলাম।

প্রথম আলো: জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে। ওই সময়ের এমন কোনো ঘটনার কথা বলবেন কি, যা এখনো প্রকাশ করেননি?

নাহিদ ইসলাম: কোটা সংস্কার আন্দোলন ও গণ–অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী এক বছর—এই পুরো সময়টাই বাংলাদেশের জন্য ঘটনাবহুল। সব ঘটনা এখনো বলার সময় আসেনি।
জুলাইয়ের আন্দোলন কীভাবে সংঘটিত হয়েছে, তার পেছনের প্রেক্ষাপট কী—এর ভেতরের অনেক কিছুই সামনে আসেনি। আমরা এখন নানা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ভেতরে থাকায় সেই সুযোগটা হচ্ছে না। যেকোনো বড় ঘটনার পর তার ইতিহাস পুনরুদ্ধারের জন্য সময় লাগে।

প্রথম আলো: যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান হয়েছিল, গত এক বছরে সেটা কতটা পূরণ হলো?

নাহিদ ইসলাম: জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাটা কী, সেটা আগে সংজ্ঞায়িত করতে হবে। জুলাই অভ্যুত্থান একেকজনের কাছে একেক রকম।

প্রথম আলো: আপনারা যেভাবে দেখেন, তা–ই বলুন।

নাহিদ ইসলাম: আমাদের কাছে আকাঙ্ক্ষাটা ছিল ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত। ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটেছে, কিন্তু ব্যবস্থার পতন বা বিলোপ ঘটেনি। সেই ব্যবস্থা এখনো রয়ে গেছে। সেই ব্যবস্থার রাজনৈতিক নেতৃত্ব সরে গেছে, আরেকটা রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেই ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে। কিন্তু আমাদের লড়াইটা সেই ব্যবস্থার সঙ্গে। পুরোনো ব্যবস্থাকে ভাঙতে বা পরিবর্তন করতে হবে। সেই জায়গায় আসলে অর্জন হয়নি এখনো। বৈপ্লবিক দায়িত্বটা পালন হয়েছে, কিন্তু গঠনটা আমরা এখনো করতে পারিনি।
অনেকে জুলাই অভ্যুত্থানকে কেবল সরকার পতনের একটা ঘটনা হিসেবে দেখেন। তাঁদের কাছে তো আওয়ামী লীগের পতনটাই অর্জন বা এখানেই জুলাই শেষ। আমাদের কাছে জুলাই এখান থেকে শুরু আসলে। সেই জায়গায় আমাদের অবশ্যই অপ্রাপ্তি আছে। কিন্তু এই সংগ্রাম বা আকাঙ্ক্ষার জন্য যাত্রাটা চলমান।

প্রথম আলো: আপনি যে অপ্রাপ্তির কথা বলছেন, তার কারণ কী বলে মনে করেন?

নাহিদ ইসলাম: অভ্যুত্থানের সময় প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল। আমাদের নেতৃত্বের অনেক ধরনের দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা ছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কোনো সংগঠিত প্ল্যাটফর্ম ছিল না। ৫ আগস্টের পর যখন এটাকে সংগঠিত করতে চাওয়া হয়েছে, তখন নানা দিক থেকে বাধা এসেছে। ফলে সঠিকভাবে সংগঠিত করা যায়নি। শিক্ষার্থীদের সঠিক কর্মসূচি দিয়ে মাঠে রাখা যায়নি।
একই সঙ্গে সরকার ও রাজপথে আমাদের কাজ করতে হয়েছে। সরকারের জায়গা থেকে ক্ষমতার ওপর যে ধরনের নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন ছিল, সেটা তারা করতে পারেনি। জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থী, সেনাবাহিনী, রাজনৈতিক দল ও সরকার বা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে যে ঐক্য বা অঘোষিত–অলিখিত চুক্তিটা হয়েছিল, সেই চুক্তিটা ভঙ্গ হয়েছে, সেখানে অনৈক্য হয়েছে। জুলাইয়ের পরে প্রত্যেকে যার যার এজেন্ডায় চলে গেছে। সবাই রাষ্ট্র পুনর্গঠনের এজেন্ডায় এক জায়গায় আসতে পারেনি। শেখ হাসিনার পতন পর্যন্ত সবাই এক জায়গায় থাকলেও পরে আর সবাই এক জায়গায় থাকেনি। এর ফলে অনেক কিছু করার যে সুযোগ আমাদের ছিল, সেটা করা যায়নি।

গণ–অভ্যুত্থানে ছাত্র–জনতার প্রতিরোধ। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই, ঢাকার উত্তরা
গণ–অভ্যুত্থানে ছাত্র–জনতার প্রতিরোধ। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই, ঢাকার উত্তরা
অনেকে জুলাই অভ্যুত্থানকে কেবল সরকার পতনের একটা ঘটনা হিসেবে দেখেন। তাঁদের কাছে তো আওয়ামী লীগের পতনটাই অর্জন বা এখানেই জুলাই শেষ। আমাদের কাছে জুলাই এখান থেকে শুরু আসলে। সেই জায়গায় আমাদের অবশ্যই অপ্রাপ্তি আছে। কিন্তু এই সংগ্রাম বা আকাঙ্ক্ষার জন্য যাত্রাটা চলমান।

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন